পাহাড়ি ঢলে ভাসছে হালুয়াঘাট ৩ ইউনিয়নের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড
আরিফ আহম্মেদ হালুয়াঘাট
সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ভুবনকুড়া, গাজিরভিটা এবং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে মেনেং ও বোরাঘাট নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল স্রোতে বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পাড় ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকছে জনপদে। এতে করে গ্রামগুলোর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় বোরো চাষীরা। মাঠে এখন পাকা ও আধাপাকা ধানের মৌসুম। হঠাৎ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষকরা ধান কাটার সুযোগটুকুও পাননি।
শত শত একর বোরো ধানের ক্ষেত এখন পানির নিচে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চোখের সামনে তাদের সারা বছরের আহার ভেসে যেতে দেখলেও কিছুই করার ছিল না। ঢলের স্রোত এতই বেশি ছিল যে পাকা ধান ঘরে তোলার আগেই সব তলিয়ে গেছে।
হঠাৎ কইরা পানি আইসা আমাগো সব শেষ কইরা দিছে। পানির স্রোতে বাঁধ ভাইঙ্গা খেতের ধান তলাইয়া গেছে, অহন পোলাপান লইয়া কী খামু হেই চিন্তায় আছি।"
ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক
বন্যায় শুধু ফসলি জমি নয়, অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ও মাছের ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাগুলো পানির নিচে থাকায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষজন গবাদি পশু ও আসবাবপত্র নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি এখন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।
আরিফ আহমেদ