ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের একটি সামাজিক কবরস্থানের নামকরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সচেতন মহল আশঙ্কা করছে, সময়মতো সমাধান না হলে এই বিরোধ ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থানটির সীমানাভুক্ত জমির বড় একটি অংশ ঝগড়ারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মালিকানাধীন হওয়ায় ওই গ্রামের অনেকেই কবরস্থানটির নাম “ঝগড়ারচর কবরস্থান” রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের যুক্তি, জমির প্রধান অংশ যেহেতু ঝগড়ারচর গ্রামের মানুষের, তাই কবরস্থানের নামও সেই গ্রামের নামেই হওয়া উচিত।
অন্যদিকে সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তাদের দাবি, কবরস্থানটি শুধু ঝগড়ারচর গ্রামের মানুষের জন্য ব্যবহৃত হয় না; বরং পশ্চিম নয়াহাটি, কুমিরমারা, চরেরকান্দা, আতকাপাড়া এবং আশপাশের অন্যান্য গ্রামের মৃত ব্যক্তিদেরও এখানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কবরস্থানের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আর্থিক ও শ্রম সহায়তা দিয়ে আসছেন। তাই একটি নির্দিষ্ট গ্রামের নামে নামকরণ না করে “সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড সামাজিক কবরস্থান” বা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন কোনো নাম নির্ধারণ করা অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে।
এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, কবরস্থানটি বহু বছর ধরে বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যৌথ ব্যবহারের স্থান হিসেবে পরিচিত। ফলে নামকরণের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যা কোনো পক্ষকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।
এদিকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সমর্থনে পোস্ট ও মন্তব্য বাড়ছে। এতে করে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার ও বিভাজনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তারা বলছেন, একটি কবরস্থান মূলত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। এ ধরনের স্থানকে কেন্দ্র করে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যের বার্তা প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, সমাজপতি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো জরুরি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কবরস্থানের প্রবেশপথে স্থায়ী নামফলক ও গেট নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিতর্কের অবসান ঘটানো হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন