কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন খান, উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন খান মনোনীত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক উন্নয়নে নতুন কমিটির কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পেছনে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজপতি এবং সাধারণ মানুষের অবদান রয়েছে বলে স্থানীয় প্রবীণদের দাবি।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি সংগ্রহ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে মরহুম বাহাদুর খা, ইছু খা, শহীদ মিয়া, তালেব হোসেন, ছমু মিয়া, আসাদ মিয়া, মেহের আলীসহ অনেক ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে খান বাড়ির একাধিক সদস্যও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তারা জানান।
তবে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও অবদানকারীদের স্বীকৃতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন খান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তিনি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হতে পারে।
এদিকে বিদ্যালয়কে ঘিরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রত্যাশার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ, অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রদান, সম্পদের সুরক্ষা, খেলার মাঠ উন্নয়ন, উচ্চ মাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) শাখা চালুর উদ্যোগ, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
এলাকাবাসীর একটি অংশ বিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষা, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।